আপনার নিয়ন্ত্রণ সংখ্যা

সংখ্যাতত্ত্ব একটি আধিভৌতিক বিদ্যা। মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই এর চর্চা চলে আসছে। মেসোপটেমিয়া,মিসর, ভারত, চীন সহ সকল প্রাচীন সভ্যতাতেই এর চর্চা হতো।
সংখ্যাতত্ত্ব চর্চা করতে হলে আপনার জন্ম ও কর্মসংখ্যা, তার প্রভাব ও কার্যকারীতা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আপনি নিজেই জন্ম ও কর্মসংখ্যা বের করতে পারেন।
ধরুন আপনার জন্ম হয়েছে ৪-৩-১৯৮০ ইং তারিখে এখানে আপনার জন্মসংখ্যা হলো ৪।
যদি জন্ম তারিখ যৌগিক সংখ্যা হয় যেমন ১০, ২২,১৫ ইত্যদি হলেও সংখ্যাগুলো পাশাপাশি যোগ কওে জন্মসংখ্যা বের করা যায়।
যেমন ১০=১, ২২=৪, ১৫=৬,ইত্যাদি।
ছদি ৪-৩-১৯৮০-তে জন্মগ্রহণকারীর জন্মসংখ্যা ৪ এবং জন্ম তারিখের সবগুলো সংখ্যা পাশাপাশি লিখে যোগ করলেই বের হবে কর্ম সংখ্যা। যেমন ৪+৩+১+৯+৮+০=২৫=৭ এই ৭ কর্মসংখ্যা অধিপতি গ্রহ বৃহস্পতি অর্থাৎ কর্মজীবন বৃহস্পতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।
তবে জন্ম তারিখ ৪ হওয়াতে এটা হলো ইউরেনাসের সংখ্যা। ফলে ইউরেনাসের প্রভাবে জীবনে বহু অপ্রত্যাসিত ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যায়। আর জন্ম মাস ৩ অর্থাৎ মার্চ এ সংখ্যাটিও বৃহস্পতির ।
এটি শান্তির প্রতিক। এভাবে জন্মদিন ,মাস ও বছরের সংখ্যার মৌলিক সংখ্যায় করে তা দেখা প্রয়োজন তা শুভ কিনা। যদি অশুভ হয় ভুলে যান।
উপরের নিয়ম অনুযায়ী আমরা কর্মসংখ্যা, জন্মসংখ্যা পেয়ে গেছি। এবার আমরা নিয়ন্ত্রণ রাশি দেখবো
জন্ম ও কর্মসংখ্যা মতো প্রত্যেক মানুষের একটি নাম রয়েছে। নাম সংখ্যাটি নিরুপন করা হয় নাম থেকে। এটি বের করতে হলে ইংরেজিতে নাম লিখে প্রতিটি অখরের মান বসিয়ে পাশাপাশি যোগ করতে হবে।
নাম ছাড়া আমরা কেউ নেই, নাম থেকেই একজন ব্যাক্তির শুভাশুভ অনেক কিছু বের করা যায়। আর নাম সংখ্যটি যদি অশুভ হয় তবে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তির জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। যে নামে আপনি পরিচিত সে নাম যদি শুভ না হয় তবে প্রয়োজনে নামের বানান হের ফের করে অর্থাৎ দু’একটি অংশ কমিয়ে বা বাড়িয়ে নিয়ে তা শুভ করে নিতে পারেন।
# নিয়ন্ত্রণ সংখ্যা
নাম সংখ্যা, জন্মসংখ্যা ও কর্মসংখ্যা বের করার পর এতিন ধরনের ষংখ্যা সমন্বয়ে নিরূপন কর য়ায় জাতকের একক সংখ্যা।
মনে করি, জনাব আমীর হোসেন একজন জাতক প্রথমে তার নামসংখ্যাকে নির্ধরণ করতে হবে।
আ মি র হো সে ন(A(1)M(13=4)I(9)R(18=9) H(8)O(15=6)S(19=8)S(19=8)A(1)I(9)N(14=5))
১+৪+৯+৯+৮+৬+৮+৮+১+৯+৫=৬৭=৪
তাহলে জনাব আমির হোসেনের নামষংখ্যা হচ্ছে ৪। ধরা যাক, তার জন্ম তারিখ হচ্ছে ১৯৫২ ৩১ অক্টোবর । এখন এই ষংখ্যাগুলোকে পাশাপাশি লিখে যোগ কওে যোগফলকে একক সংখ্যায় রূপান্তর করলেই তার জন্ম সংখ্যা পাওয়া যাবে। ৩+১=৪ অর্থাৎ জনাব অমির হোসেনের ণাম ষংখ্যা ৪, জন্মসংখ্যা ৪ ও কর্মসংখ্যা ৪। এখন এই তিনটি সংখ্যাকে যোগ কওে যোগফলকে একক সংখ্যায় রূপান—র করলেই তার নিয়ন্ত্রক সংখ্যাকে নির্ধারণ করা যাবে।
৪+৪+৪=৩
তাহলে জনাব আমীর হোসেনের নিয়ন্ত্রক সংখ্যা হচ্ছে ৩। এখন এই ৩ সংখ্যার কাতরতা বুঝতে হলে প্রতিটি সংখ্যার সাধারণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে হবে।

# সংখ্যা ১; নিয়ন্ত্রক রবি
এই সংখ্যা জাতকেরা জীবন যুদ্ধে অজেয় হন। ক্ষেত্র বিশেষে এরা প্রতিভাবানও হতে পারেন। ছোটবেলা থেকেই অস্থির ও চঞ্চল এসব ব্যক্তির মন-মানসিকতা হয় অত্যন্ত উদার। কিন্তু কোনোরকম অন্যায়র সঙ্গে এরা আপোষ করেন না।

# সংখ্যা ২; নিয়ন্ত্রক চন্দ্র
এই সংখ্যার জাতকেরা স্বভাবতই কল্পনাবিলাসী। এদের এই কল্পনাবিলাস কখনো বাস্তবমুখী হতে পারে,কখনো বা হতে পারে পরবাস্তববাদী। বাস্তবমুখী হলে এরা ব্যবসায় অত্যন্ত সফল হন। বিশেষ করে নিত্যনতুন পণ্য তৈরীর ক্ষেত্রে এরা হন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যদিকে অপার্থিবতার দিকে ঝুকে পড়লে এরা পরিণত হতে পারেন কালজয়ী সাহিত্যিক।

# সংখ্যা ৩; নিয়ন্ত্রক বৃহস্পতি
এই সংখ্যার জাতকদেও জীবন প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। পুরো জীবনে এদেও মন মানসিকতা, বৈশিষ্ট্য ও পেশার পরিবর্তন ঘটে ধারণাতীতভাবে। এরা বুদ্ধিবৃত্তিতে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, মানসিকতায় পুরোপুরিভাবে একজন একনায়ক, পেশায় অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও বহুমুখী এবং জ্ঞানের দিক থেকে অসম্ভব রকমের গভীর।

# সংখ্যা ৪; নিয়ন্ত্রক ইউরেনাস
ঊইে সংখ্যা জাতকরা আজন্ম বিপ্লবী। সংগত কারণেই এরা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। তাই এদেও দাম্পত্য জীবন হয় অত্যন্ত খাপছাড়া, এলোমেলো। বৃদ্ধ বয়সে পিত্তশূল ও বধিরতায় এরা আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়াও দুর্ঘটনা এদেও নিত্য সঙ্গী।

# সংখ্যা ৫; নিয়ন্ত্রক বুধ
এই সংখ্যা জাতকেরা সবসময়ই হাসি-খুশি, সর্বদাই প্রফুল। তুখোড় বাগ্মিতা এদেও জন্মগত। পাশাপাশি রয়েছে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, বৈষয়িক মনেবৃত্তি ও শৈল্পিক চিন্তা। তই ব্যবসায়ী হিসেবে এরা অত্যন্ত সফল।

# সংখ্যা ৬; নিয়ন্ত্রক শুক্র
এই সংখ্যার জাতকেরা জন্মগতভাবেই সৃজনশীল, কুটনীতিক ও বিশ্বপ্রেমি।

# সংখ্যা ৭; নিয়ন্ত্রক নেপচুন
এরা সবসময়ই অনসন্ধিৎসু। আর তাদেও জানার আগ্রহ নিয়ন্ত্রিত হয় দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা। তাই এরা পরিণত হতে পারেন কালজযী বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক।
# সংখ্যা ৮; নিয়ন্ত্রক শনি
এই সংখ্যার জাতকদেও জীবন অত্যন্ত কঠিন এক সংগ্রামের কাহিনী। এদের জীবনে ‘সুযোগ প্রাপ্তি’ নামের কোন শব্দ নেই। এক আপোষহীন প্রচেষ্টার দ্বারা এরা নিজেদের জীবনকে গড়ে নেন। এদেও সাফল্য অর্জিত হয় শেষ বয়সে।

# সংখ্যা ৯; নিয়ন্ত্রক মঙ্গল
এই সংখ্যার জাতকেরা সর্বদাই গতিশীল ও মনমানসীকতায় আগ্নেয়। ফলে ক্রীড়াবিদ হিসেবে সাফল্য লাভ করতে পারেন। কিন্তু অগ্নিগর্ভ ব্যক্তিত্বের দরুন এদেও অধিনায়কত্ব অন্যদের জন্য নিপীড়নে পরিণত হতে পারে। পাশাপশি এরা রাজনেতিক ব্যক্তিত্বেও পরিণত হতে পারেন।
বিঃ দ্রঃ একটি কথা মনে রাখতে হবে । জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি সহায়ক অঙ্গ হচ্ছে এটি। তাই জন্মছক বিশ্লেষণ ও হস্তরেখা বিচারের পাশাপাশি একে প্রয়োগ করলেই সঠিক ভাবে ভাগ্য বিচার করা যাবে নতুবা এককভাবে এর প্রয়োগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *